অসুখী একজন কবিতা – মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | পাবলো নেরুদা | Asukhi Ekjon Poem – Pablo Neruda | Madhyamik Bengali Question and Answer
‘অসুখী একজন’ পাবলো নেরুদার একটি গুরুত্বপূর্ণ কবিতা, যেখানে ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ, দীর্ঘ প্রতীক্ষা, যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ এবং ভালোবাসার অমরত্ব একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর নিচে সহজ ভাষায় সাজানো হলো।
অসুখী একজন কবিতা: সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| কবিতা | অসুখী একজন |
| কবি | পাবলো নেরুদা |
| অনুবাদক | নবারুণ ভট্টাচার্য |
| শ্রেণি | মাধ্যমিক দশম শ্রেণি |
| বিষয় | বাংলা |
| প্রধান বিষয় | বিচ্ছেদ, প্রতীক্ষা, যুদ্ধ, ধ্বংস এবং ভালোবাসার স্থায়িত্ব |
অসুখী একজন MCQ প্রশ্ন ও উত্তর
১. ‘অসুখী একজন’ কবিতার কবি কে?
(ক) মানেজ
(খ) রোকে ডালটন
(গ) লেওজেল রুগমা
(ঘ) পাবলো নেরুদা
২. ‘অসুখী একজন’ কবিতাটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন কে?
(ক) মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
(খ) নবারুণ ভট্টাচার্য
(গ) উৎপলকুমার বসু
(ঘ) শুভাশিষ ঘোষ
৩. ‘অসুখী একজন’ কবিতার অনুবাদক-সম্পর্কিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
(ক) এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়
(খ) পৃথিবীর শেষ কমিউনিস্ট
(গ) বিদেশি ফুলে রক্তের ছিটে
(ঘ) ফ্যাতাড়ুর কুম্ভীপাক
৪. পাবলো নেরুদা কোন দেশের কবি ও রাজনীতিবিদ ছিলেন?
(ক) চিলি
(খ) জার্মানি
(গ) রাশিয়া
(ঘ) ফ্রান্স
৫. কবিতায় অপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে ছিল কে?
(ক) একজন সৈনিক
(খ) কবির প্রিয় নারী
(গ) একজন নান
(ঘ) কবির বন্ধু
৬. কবিতায় অপেক্ষারত নারীটি কোথায় দাঁড়িয়েছিল?
(ক) রাস্তায়
(খ) বারান্দায়
(গ) দরজায়
(ঘ) ছাদে
৭. ‘সে জানত না’— এখানে ‘সে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) একজন সৈনিককে
(খ) কবির প্রিয় নারীকে
(গ) কবির বন্ধুকে
(ঘ) একজন নানকে
৮. কবির পায়ের দাগ কীসে মুছে গিয়েছিল?
(ক) আগুনে
(খ) ধুলোয়
(গ) বৃষ্টিতে
(ঘ) জলে
৯. কবির পরিত্যক্ত রাস্তায় কী জন্মেছিল?
(ক) ফুল
(খ) ঘাস
(গ) ধান
(ঘ) গাছ
১০. কবিতায় একটার পর একটা বছর কীসের মতো নেমে এসেছিল?
(ক) জলের মতো
(খ) ফুলের মতো
(গ) পাথরের মতো
(ঘ) গানের মতো
১১. কবিতায় কে হেঁটে চলে গিয়েছিল?
(ক) সৈনিক
(খ) কবি
(গ) গির্জার এক নান
(ঘ) শিশুরা
১২. ‘একটা কী চলে গেল’— এখানে কোন প্রাণীর কথা বলা হয়েছে?
(ক) বিড়াল
(খ) হরিণ
(গ) কুকুর
(ঘ) পাখি
১৩. যুদ্ধকে কবি কিসের সঙ্গে তুলনা করেছেন?
(ক) সমুদ্রের সঙ্গে
(খ) রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়ের সঙ্গে
(গ) ঝড়ের সঙ্গে
(ঘ) বৃষ্টির সঙ্গে
১৪. যুদ্ধের ফলে কী ধ্বংস হয়েছিল?
(ক) শুধু একটি বাড়ি
(খ) শুধু একটি রাস্তা
(গ) শহর, বাড়ি ও দেবালয়সহ বিস্তৃত জনজীবন
(ঘ) শুধু মন্দির
১৫. যুদ্ধের পর শহরের জায়গায় কী কী পড়ে ছিল?
(ক) ফুল ও পাতা
(খ) কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা ও ধ্বংসের চিহ্ন
(গ) শুধু পাথর
(ঘ) শুধু ধুলো
১৬. কবিতায় শান্ত-হলুদ দেবতারা কত বছর ধ্যানে ডুবে ছিল?
(ক) একশো বছর
(খ) পাঁচশো বছর
(গ) হাজার বছর
(ঘ) দু-হাজার বছর
১৭. দেবতারা মন্দির থেকে কীভাবে পড়ে গিয়েছিল?
(ক) ধীরে ধীরে
(খ) টুকরো টুকরো হয়ে
(গ) অক্ষত অবস্থায়
(ঘ) জলের সঙ্গে
১৮. ‘তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না’— এখানে ‘তারা’ কারা?
(ক) শিশুরা
(খ) সৈনিকেরা
(গ) দেবতারা
(ঘ) সাধারণ মানুষ
১৯. কবির বাড়ির বারান্দায় কী ছিল?
(ক) পাথরের মূর্তি
(খ) ঝুলন্ত বিছানা
(গ) কাঠের নৌকা
(ঘ) একটি কূপ
২০. কবির বাড়ির গাছটির রং কী ছিল?
(ক) নীল
(খ) হলুদ
(গ) গোলাপি
(ঘ) সবুজ
২১. যেখানে শহর ছিল, সেখানে কী ছড়িয়ে ছিল?
(ক) কাঠকয়লা
(খ) দোমড়ানো লোহা
(গ) পাথরের মূর্তির ভাঙা অংশ
(ঘ) উপরের সবকটি
২২. যুদ্ধের ফলে রক্তের দাগের রং কেমন হয়ে গিয়েছিল?
(ক) লাল
(খ) কালো
(গ) হলুদ
(ঘ) নীল
২৩. কবিতায় নিরপরাধ শিশুদের কী পরিণতি হয়েছিল?
(ক) তারা পালিয়ে গিয়েছিল
(খ) তারা বেঁচে ছিল
(গ) তারা যুদ্ধের হিংসার শিকার হয়েছিল
(ঘ) তারা শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিল
২৪. এত ধ্বংসের মধ্যেও কার মৃত্যু হয়নি?
(ক) সৈনিকের
(খ) কবির বন্ধুর
(গ) অপেক্ষারত মেয়েটির
(ঘ) নানের
অসুখী একজন: অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
১. ‘আমি তাকে ছেড়ে দিলাম’— ‘আমি’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
২. কবির অপেক্ষায় কে দাঁড়িয়েছিল?
৩. কথকের অপেক্ষায় কোথায় দাঁড়িয়েছিল প্রিয় নারী?
৪. কথক কেন প্রিয়জনকে অপেক্ষায় রেখে চলে গিয়েছিলেন?
৫. প্রিয় নারী কী জানত না?
৬. কথকের চলে যাওয়ার পরও জীবনের স্বাভাবিক গতি বোঝাতে কবি কী কী ঘটনা উল্লেখ করেছেন?
৭. কবির পায়ের দাগ কীসে ধুয়ে গিয়েছিল?
৮. পরিত্যক্ত রাস্তায় কী জন্মেছিল?
৯. ‘পাথরের মতো বছর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
১০. যুদ্ধকে ‘রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়’ বলা হয়েছে কেন?
১১. ‘শান্ত হলুদ দেবতা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
১২. ‘তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না’— এর অর্থ কী?
১৩. কবির মিষ্টি বাড়িটি কেমন ছিল?
১৪. যুদ্ধের ফলে কবির বাড়ির কী হয়েছিল?
১৫. যুদ্ধের পরে শহরের জায়গায় কী পড়ে ছিল?
১৬. ‘নান’ বলতে কাদের বোঝায়?
অসুখী একজন: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
১. ‘আমি তাকে ছেড়ে দিলাম’— কবি কাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন?
২. ‘বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ / ঘাস জন্মালো রাস্তায়’— এর তাৎপর্য কী?
৩. বছরগুলিকে পাথরের সঙ্গে তুলনা করার কারণ কী?
৪. যুদ্ধকে ‘রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়’ বলা হয়েছে কেন?
৫. ‘সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না’— কোন মেয়েটির কথা বলা হয়েছে?
৬. ‘শান্ত হলুদ দেবতারা’— তাঁদের কী পরিণতি হয়েছিল?
৭. ‘তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না’— বক্তব্যটির তাৎপর্য কী?
৮. ‘প্রাচীন জলতরঙ্গ / সব চূর্ণ হয়ে গেল’— কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
৯. ‘সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা’— এর মাধ্যমে কী বোঝানো হয়েছে?
১০. ‘তারপর যুদ্ধ এল’— ‘তারপর’ বলতে কোন সময়কে বোঝানো হয়েছে?
১১. ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কাকে অসুখী বলা হয়েছে?
কবিতার মূল ভাব
‘অসুখী একজন’ কবিতার কেন্দ্রীয় ভাব হলো— যুদ্ধ ও ধ্বংস মানুষের জীবন, ঘরবাড়ি, সভ্যতা এবং স্মৃতিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে, কিন্তু সত্যিকারের ভালোবাসা ও অপেক্ষার অনুভূতিকে সহজে ধ্বংস করা যায় না।
কবিতার শুরুতে রয়েছে বিচ্ছেদের বেদনা। কথক তাঁর প্রিয় নারীকে দরজায় অপেক্ষা করতে রেখে দূরে চলে যান। প্রিয় নারী জানে না যে তিনি আর ফিরে আসবেন না। সময় এগিয়ে চলে, বৃষ্টিতে কথকের পায়ের দাগ মুছে যায় এবং পরিত্যক্ত রাস্তায় ঘাস জন্মায়। অর্থাৎ ব্যক্তিগত বিচ্ছেদের মধ্যেও প্রকৃতি ও সমাজের স্বাভাবিক জীবন থেমে থাকে না।
এরপর কবিতায় যুদ্ধের প্রবেশ ঘটে। যুদ্ধকে কবি ‘রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। যুদ্ধের আগুনে শহর, বাড়িঘর, দেবালয় এবং মানুষের জীবন ধ্বংস হয়। কবির নিজের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িও সেই ধ্বংস থেকে রক্ষা পায় না।
সবশেষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য তৈরি হয়। চারদিকে যখন ধ্বংস, মৃত্যু ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ছবি, তখনও সেই অপেক্ষারত মেয়েটি বেঁচে থাকে। তার অপেক্ষা ও ভালোবাসা টিকে থাকে। এইভাবেই কবিতা যুদ্ধের নিষ্ঠুরতার বিপরীতে ভালোবাসার অমর শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করে।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এক নজরে
| গুরুত্বপূর্ণ বিষয় | মনে রাখার বিষয় |
|---|---|
| কবি | পাবলো নেরুদা |
| অনুবাদক | নবারুণ ভট্টাচার্য |
| অপেক্ষারত ব্যক্তি | কবির প্রিয় নারী |
| অপেক্ষার স্থান | দরজা |
| পায়ের দাগ | বৃষ্টিতে মুছে যায় |
| পরিত্যক্ত রাস্তায় | ঘাস জন্মায় |
| বছরের উপমা | পাথরের মতো |
| যুদ্ধের উপমা | রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড় |
| দেবতাদের অবস্থা | মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ে |
| যুদ্ধের পর শহর | কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, ভাঙা মূর্তি ও রক্তের কালো দাগ |
| ধ্বংসের মধ্যেও যে টিকে থাকে | অপেক্ষা ও ভালোবাসা |
মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কী কী পড়বে
এই অধ্যায় প্রস্তুত করার সময় শুধু তথ্য মুখস্থ না করে কবিতার বিচ্ছেদ, প্রতীক্ষা, সময়ের প্রবাহ, যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ এবং ভালোবাসার স্থায়িত্ব— এই কয়েকটি মূল ভাব ভালোভাবে বুঝে পড়া উচিত। বিশেষ করে ‘বৃষ্টিতে ধুয়ে দিল আমার পায়ের দাগ’, ‘পাথরের মতো বছর’, ‘রক্তের এক আগ্নেয়পাহাড়’, ‘শান্ত হলুদ দেবতা’ এবং অপেক্ষারত মেয়েটির প্রসঙ্গ থেকে প্রশ্ন আসতে পারে।
পড়ার কৌশল: MCQ-এর পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্নের উত্তর নিজের ভাষায় লেখার অভ্যাস করো। উদ্ধৃতির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করার সময় প্রথমে প্রসঙ্গ, তারপর মূল বক্তব্য এবং শেষে কবির ভাবনা লিখলে উত্তরটি আরও সুসংগঠিত হয়।
