অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতা – Joy Goswami | মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Bengali Question and Answer
‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ জয় গোস্বামীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কবিতা, যেখানে অস্ত্রের হিংস্র শক্তির বিপরীতে গানকে মানবিকতা, শান্তি, ভালোবাসা ও সৃষ্টিশীলতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কবি অস্ত্রের পরিবর্তে গানের শক্তিকে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই কবিতার MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর এবং রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে।
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার সংক্ষিপ্ত পরিচয়
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| কবিতার নাম | অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান |
| কবি | জয় গোস্বামী |
| মূল গ্রন্থ | পাতার পোষাক |
| গ্রন্থের রচনাকাল | ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ |
| শ্রেণি | মাধ্যমিক দশম শ্রেণি |
| বিষয় | মাধ্যমিক বাংলা |
| প্রধান ভাব | অস্ত্রের বিরোধিতা এবং মানবিকতার পক্ষে গানকে প্রতিষ্ঠা |
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান কবিতার মূলভাব
জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতার কেন্দ্রে রয়েছে যুদ্ধ, হিংসা ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে মানবিক প্রতিবাদ। কবির মতে, অস্ত্র মানুষের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ, ক্ষমতার অহংকার এবং ধ্বংসের প্রবণতাকে বাড়িয়ে তোলে। তাই অস্ত্রকে মানুষের জীবনের নিয়ামক না করে তাকে ত্যাগ করা প্রয়োজন।
এর বিপরীতে গান মানুষের অন্তরের কোমলতা, সৃষ্টিশীলতা, ভালোবাসা, শান্তি ও মানবিকতার প্রকাশ। কবি বিশ্বাস করেন, অস্ত্রের শক্তিকে অস্ত্র দিয়ে প্রতিহত করার পরিবর্তে গানের মানবিক শক্তির মাধ্যমে মানুষের মনকে পরিবর্তন করা সম্ভব।
কবিতার মূল ভাব এক কথায়: অস্ত্র নয়, মানবিকতা ও সৃষ্টিশীলতার প্রতীক গানই হোক মানুষের প্রকৃত শক্তি।
অস্ত্র ও গানের প্রতীকী অর্থ
| প্রতীক | কবিতায় তাৎপর্য |
|---|---|
| অস্ত্র | হিংসা, বিদ্বেষ, যুদ্ধ, ক্ষমতা ও ধ্বংসের প্রতীক |
| গান | মানবিকতা, শান্তি, ভালোবাসা ও সৃষ্টিশীলতার প্রতীক |
| বুলেট | হিংস্রতা ও যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক শক্তির প্রতীক |
| খড়কুটো | সামান্য অবলম্বন নিয়েও প্রতিরোধের আকাঙ্ক্ষা |
| কোকিল | তারুণ্য, মাধুর্য, বসন্ত ও নতুন প্রাণের প্রতীক |
| শকুন বা চিল | যুদ্ধবাজ, ক্ষমতালোভী ও সুযোগসন্ধানী শক্তির প্রতীক |
| ঋষিবালক | শান্তি, পবিত্রতা ও নিষ্পাপ মানবিকতার প্রতীক |
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান MCQ প্রশ্ন ও উত্তর
১. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটির কবি কে?
(A) শঙ্খ ঘোষ
(B) জীবনানন্দ দাশ
(C) বিষ্ণু দে
(D) জয় গোস্বামী
২. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতাটির উৎস কোন গ্রন্থ?
(A) পাখি, হুস
(B) ভালোটি বাসিব
(C) পাতার পোষাক
(D) ভূতুমভগবান
৩. ‘পাতার পোষাক’ গ্রন্থটির রচনাকাল কোনটি?
(A) ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
(B) ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
(C) ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
(D) ২০০১ খ্রিস্টাব্দ
৪. ‘পাতার পোষাক’ কাব্যগ্রন্থের জন্য জয় গোস্বামী কোন পুরস্কার পান?
(A) আনন্দ পুরস্কার
(B) সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার
(C) বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্মৃতি পুরস্কার
(D) অন্য একটি সাহিত্য পুরস্কার
৫. ‘অস্ত্র’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?
(A) হাতিয়ার
(B) কণ্ঠসংগীত
(C) গুঞ্জন
(D) বাদ্যযন্ত্র
৬. ‘বিরুদ্ধে’ শব্দের অর্থ কী?
(A) বিপরীতে
(B) অমিল
(C) সহজে
(D) সামনে
৭. ‘গান’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ কী?
(A) নৃত্য
(B) রঙ্গরস
(C) গীতি
(D) অস্ত্র
৮. কবিতাটির প্রথম পঙ্ক্তি কী?
(A) অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে
(B) গান বাঁধিবে সহস্র উপায়ে
(C) অস্ত্র রাখো, অস্ত্র ফ্যালো পায়ে
(D) অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো গানের দুটি পায়ে
৯. ‘আমি এখন হাতে পায়ে’— কত?
(A) লক্ষ
(B) হাজার
(C) শত
(D) একক
১০. কবিতার ‘আমি’ কে?
(A) জনৈক আত্মীয়
(B) রাজা
(C) কবিতার কথক
(D) সৈনিক
১১. ‘বুলেট’ বলতে কী বোঝায়?
(A) কাচের গুলি
(B) বন্দুকের গুলি
(C) প্লাস্টিকের খেলনা
(D) মানুষের শরীর
১২. কবি কীভাবে বুলেট তাড়ান?
(A) শরীর দুলিয়ে
(B) মাথা নাড়িয়ে
(C) পা দুলিয়ে
(D) হাত নাড়িয়ে
১৩. কবি কী প্রতিরোধ করতে গানের বর্ম পরেছেন?
(A) কথা
(B) শব্দ
(C) ধ্বনি
(D) অস্ত্র
১৪. ‘কর্ম’ শব্দের অর্থ কী?
(A) কবচ
(B) হার
(C) পুঁতি
(D) চামর
১৫. ‘গান তো জানি একটা দুটো’— ‘একটা দুটো’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(A) সামান্য
(B) মাঝারি
(C) অনেক
(D) অপ্রতুল
১৬. ‘আঁকড়ে’ শব্দটির অর্থ কী?
(A) জড়িয়ে
(B) পরিয়ে
(C) মাড়িয়ে
(D) ছড়িয়ে
১৭. ‘খড়কুটো’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(A) সামান্য সম্বল
(B) গুরুত্বহীন বস্তু
(C) বহু মূল্যবান বস্তু
(D) খাদ্যজাতীয় বস্তু
১৮. গানের গায়ে কী মোছা হয়?
(A) অস্ত্র
(B) চোখের জল
(C) ময়লা
(D) রক্ত
১৯. মাথায় শকুন অথবা কী আছে?
(A) কাক
(B) চিল
(C) বক
(D) চড়াই
২০. সহস্র উপায়ে গান বাঁধবে কে?
(A) চিল-শকুন
(B) শ্যামা
(C) কোকিল
(D) দোয়েল
২১. কোকিল কীসের দূত?
(A) শরৎ
(B) বর্ষা
(C) বসন্ত
(D) হেমন্ত
২২. শকুন বা চিল কাদের প্রতীক?
(A) উদার মানুষ
(B) সুযোগসন্ধানী মানুষ
(C) ভালো মানুষ
(D) সাধারণ মানুষ
২৩. ‘সহস্র উপায়ে’ অর্থ কী?
(A) অনেক উপায়ে
(B) অল্প উপায়ে
(C) মধ্যম উপায়ে
(D) শাব্দিক উপায়ে
২৪. ‘বর্ম খুলে দ্যাখো’— কেমন গায়ে?
(A) জামা
(B) আদুড়
(C) নোংরা
(D) সুগন্ধ
২৫. কবিতায় ঋষিবালক কীসের প্রতীক?
(A) পরিত্রাতা
(B) কবিতাকথক
(C) স্বার্থান্বেষী
(D) কবি
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
১. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় কী ফেলার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কবিতায় অস্ত্র ফেলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
২. ‘অস্ত্র ফ্যালো, অস্ত্র রাখো পায়ে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: অস্ত্রকে মানুষের ক্ষমতার প্রতীক না করে তা ত্যাগ করে নিচে নামিয়ে রাখার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে কবি অস্ত্রের অহংকার ও হিংস্রতাকে প্রত্যাখ্যান করতে চেয়েছেন।
৩. কবি অস্ত্র ফেলার কথা বলেছেন কেন?
উত্তর: অস্ত্র মানুষের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও ধ্বংসের প্রবণতা সৃষ্টি করে। তাই মানবিকতা রক্ষার জন্য কবি অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।
৪. ‘হাজার হাতে-পায়ে এগিয়ে আসি’— এর অর্থ কী?
উত্তর: এখানে ‘হাজার হাতে-পায়ে’ বলতে সম্মিলিত মানবতার শক্তিকে বোঝানো হয়েছে। অস্ত্রের বিরুদ্ধে একা নয়, বহু মানুষের সম্মিলিত শক্তিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।
৫. কবি হাত নাড়িয়ে কী তাড়ান?
উত্তর: কবি হাত নাড়িয়ে বন্দুকের বুলেট তাড়ানোর কথা বলেছেন। এটি আসলে হিংস্রতার বিরুদ্ধে মানবিক সাহসের প্রতীকী প্রকাশ।
৬. বুলেট প্রতিরোধ করতে কবি কী পরেছেন?
উত্তর: কবি ‘গানের বর্ম’ পরেছেন। গান এখানে মানবিকতা ও সৃষ্টিশীলতার রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
৭. ‘গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে’— এর কারণ কী?
উত্তর: কবি বিশ্বাস করেন, অস্ত্রের হিংস্র শক্তিকে মানবিকতার গান দিয়ে প্রতিরোধ করা যায়। তাই তিনি গানের বর্ম ধারণ করেছেন।
৮. ‘গান তো জানি একটা দুটো’— ‘একটা দুটো’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ‘একটা দুটো’ বলতে সামান্য বা সীমিত সামর্থ্য বোঝানো হয়েছে।
৯. ‘খড়কুটো’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: খড়কুটো বলতে শুকনো ঘাস বা বিচালি বোঝায়। কবিতায় এটি বিপন্ন মানুষের সামান্যতম অবলম্বনের প্রতীক।
১০. ‘রক্ত মুছি গানের গায়ে’— কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: অস্ত্রের কারণে যে রক্তপাত ও মানবিকতার ক্ষয় ঘটে, কবি তা গানের মানবিক শক্তির মাধ্যমে মুছে দিতে চান।
১১. ‘শকুন বা চিল’ কীসের প্রতীক?
উত্তর: শকুন বা চিল যুদ্ধবাজ, ক্ষমতালোভী ও সুযোগসন্ধানী মানুষের প্রতীক।
১২. কবি কাকে সম্বল করে গান বাঁধতে চান?
উত্তর: কবি তাঁর বুকের ভেতরের কোকিলকে সম্বল করে গান বাঁধতে চান।
১৩. কবিতায় কোকিলের উপস্থিতির তাৎপর্য কী?
উত্তর: কোকিল বসন্তের দূত। তাই এটি তারুণ্য, মাধুর্য, নতুন জীবন ও মানবিক সজীবতার প্রতীক।
১৪. কবি কোকিলকে ‘সহস্র উপায়ে’ গান বাঁধতে বলেছেন কেন?
উত্তর: হিংস্র ও শক্তিশালী অস্ত্রের বিরুদ্ধে মানবিকতার গানকে নানা সৃজনশীল উপায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন বোঝাতেই ‘সহস্র উপায়ে’ কথাটি ব্যবহৃত হয়েছে।
১৫. ‘আদুড়’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘আদুড়’ অর্থ খোলা বা অনাবৃত। কবিতায় এটি হিংসা, অহংকার ও বিদ্বেষের আবরণ খুলে ফেলার ভাব প্রকাশ করে।
১৬. ঋষিবালকের মাথায় কী গোঁজা রয়েছে?
উত্তর: ঋষিবালকের মাথায় ময়ূরের পালক গোঁজা রয়েছে।
১৭. ‘গান দাঁড়াল ঋষিবালক’— এর অর্থ কী?
উত্তর: গান এখানে শান্ত, পবিত্র ও নিষ্পাপ শক্তির রূপ নিয়েছে। তাই তাকে ঋষিবালকের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
১৮. গান মানুষের সঙ্গী হয়ে কোথায় বেড়াবে?
উত্তর: গান মানুষের সঙ্গী হয়ে নদীতে, দেশে ও গাঁয়ে ঘুরে বেড়াবে— অর্থাৎ মানবিকতার বার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে।
১৯. ‘গানের দুটি পায়ে’ কথাটির তাৎপর্য কী?
উত্তর: অস্ত্রের অহংকার ও ঔদ্ধত্যকে গানের মানবিক শক্তির কাছে সমর্পণ করার ভাবটি এখানে প্রকাশিত হয়েছে।
২০. অস্ত্র ধরার পরিবর্তে কবি কী নিতে বলেছেন?
উত্তর: অস্ত্রের পরিবর্তে কবি গানের সম্মোহনী ও মানবিক শক্তিকে সম্বল করতে বলেছেন।
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
১. কবি অস্ত্র ফেলতে বলেছেন কেন? ‘অস্ত্র পায়ে রাখার’ মর্মার্থ কী?
উত্তর: জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় অস্ত্রকে হিংসা, বিদ্বেষ, ক্ষমতা ও ধ্বংসের শক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। অস্ত্রের ব্যবহার মানুষের মধ্যে ভয় ও হিংস্রতা বাড়ায় এবং মানবিক সম্পর্ককে দুর্বল করে। তাই কবি অস্ত্রের পরিবর্তে মানবিকতার শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।
‘অস্ত্র পায়ে রাখা’ আসলে অস্ত্রের ক্ষমতা ও অহংকারকে প্রত্যাখ্যান করার প্রতীক। অস্ত্রকে আর সম্মানের বা ক্ষমতার আসনে না রেখে মানুষের চরণতলে নামিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে কবি তার আধিপত্য অস্বীকার করেছেন।
মূল বক্তব্য: অস্ত্রের শক্তিকে পরাজিত করার পথ হিসেবে কবি হিংসার বদলে মানবিকতা ও গানকে বেছে নিয়েছেন।
২. পাঠ্য কবিতা অবলম্বনে অস্ত্র ও গানের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর: কবিতায় ‘অস্ত্র’ ও ‘গান’ দুটি বিপরীত শক্তির প্রতীক। অস্ত্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে হিংসা, যুদ্ধ, বিদ্বেষ, ক্ষমতা ও ধ্বংস। অন্যদিকে গান মানুষের হৃদয়ের কোমলতা, ভালোবাসা, শান্তি, সৃষ্টিশীলতা ও মানবিকতার প্রকাশ।
অস্ত্র মানুষকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কিন্তু মানুষের অন্তরকে সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন করতে পারে না। গান মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করে এবং মানুষের মধ্যে মৈত্রী ও সহমর্মিতার বোধ জাগিয়ে তোলে।
এই কারণেই কবি অস্ত্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করতে চাননি। তিনি গানের শক্তিকে বেছে নিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, মানবিকতার সুর জেগে উঠলে হিংস্রতা ও যুদ্ধের শক্তি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়বে।
৩. ‘আমি এখন হাজার হাতে-পায়ে এগিয়ে আসি, উঠে দাঁড়াই’— ‘আমি’ কে? ‘হাজার হাতে-পায়ে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: উদ্ধৃত অংশটি জয় গোস্বামীর ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতা থেকে নেওয়া। এখানে ‘আমি’ বলতে কবিতার কথককে বোঝানো হয়েছে। তবে এই ‘আমি’ শুধু একজন ব্যক্তির পরিচয় নয়; এর মধ্যে অস্ত্রবিরোধী সম্মিলিত মানবতার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
একজন সাধারণ মানুষের শক্তি অস্ত্রের তুলনায় সীমিত। তাই অস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে প্রয়োজন বহু মানুষের সম্মিলিত শক্তি। ‘হাজার হাতে-পায়ে’ সেই সংঘবদ্ধ মানবতার প্রতীক। কবি এই সম্মিলিত শক্তির ওপর আস্থা রেখে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।
৪. ‘গানের বর্ম আজ পরেছি গায়ে’— ‘গানের বর্ম’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘গানের বর্ম’ বলতে কবি মানবিকতা, মঙ্গলবোধ, সৃষ্টিশীলতা ও শান্তির শক্তিকে বোঝাতে চেয়েছেন। অস্ত্র থেকে ছুটে আসা বুলেটের বিরুদ্ধে বাস্তব বর্ম ব্যবহার না করে কবি গানের শক্তিকে প্রতিরোধের প্রতীক করেছেন।
অস্ত্রের শক্তি মানুষের শরীরকে আঘাত করতে পারে, কিন্তু গান মানুষের মন ও বিবেককে জাগিয়ে তুলতে পারে। তাই কবির কাছে গানই মানবিকতার রক্ষাকবচ।
৫. ‘রক্ত মুছি শুধু গানের গায়ে’— গানের গায়ে রক্ত মোছার তাৎপর্য কী?
উত্তর: কবিতায় ‘রক্ত’ যুদ্ধ, হিংসা ও মানবিকতার ক্ষয়ের প্রতীক। অস্ত্রের ব্যবহারে মানুষের জীবন ধ্বংস হয় এবং সমাজে রক্তপাত ঘটে। কবি সেই রক্তের দাগ গানের গায়ে মুছে দিতে চান।
এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, হিংসার ফলে যে মানবিক ক্ষয় ঘটে, তা ভালোবাসা, সৃষ্টিশীলতা ও মানবিকতার শক্তি দিয়েই পূরণ করা সম্ভব। গান মানুষের অন্তরের মমত্ববোধ জাগিয়ে তোলে এবং হিংসার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি দেয়।
৬. ‘আমার শুধু একটা কোকিল / গান বাঁধবে সহস্র উপায়ে’— উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবি অস্ত্রের বিরুদ্ধে গানের শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। তাঁর সম্বল খুব বেশি নয়— শুধু একটি কোকিল। কিন্তু সেই কোকিল প্রতীক হয়ে উঠেছে বসন্ত, তারুণ্য, মাধুর্য ও নতুন জীবনের।
শকুন ও চিলের মতো যুদ্ধবাজ ও সুযোগসন্ধানী শক্তির বিপরীতে কোকিলের গান মানবিকতার কোমল শক্তিকে প্রকাশ করে। ‘সহস্র উপায়ে’ গান বাঁধার অর্থ হল নানা সৃজনশীল উপায়ে শান্তি ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
৭. ‘অস্ত্র রাখো, অস্ত্র ফ্যালো পায়ে’— কার উদ্দেশ্যে এই আবেদন? এর তাৎপর্য কী?
উত্তর: কবি পৃথিবীর সমস্ত মানুষের উদ্দেশ্যে অস্ত্র ত্যাগের আবেদন জানিয়েছেন। অস্ত্র মানুষের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ, ক্ষমতার লোভ ও যুদ্ধপ্রবণতা বাড়ায়। এর ফলে মানবসভ্যতা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়।
তাই কবি অস্ত্রকে পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে মানবিকতার পথে ফিরে আসতে বলেছেন। তাঁর মতে, মানুষের শুভবুদ্ধি ও সৃষ্টিশীলতার বিকাশই পারে হিংসার পরিবেশ থেকে মুক্তি দিতে।
৮. ‘গান দাঁড়াল ঋষিবালক / মাথায় গোঁজা ময়ূরপালক’— বক্তব্যটির তাৎপর্য কী?
উত্তর: কবিতায় গানকে ধীরে ধীরে এক শান্ত ও পবিত্র সত্তার রূপ দেওয়া হয়েছে। ঋষিবালকের মাথায় ময়ূরপালকের চিত্র শান্তি, সৌন্দর্য ও নিষ্পাপতার ভাব বহন করে।
অস্ত্রের হিংস্রতার বিপরীতে গান এখানে কোমল, পবিত্র ও মানবিক শক্তির প্রতীক। কবি মনে করেন, গান মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে তাকে হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে দূরে নিয়ে যেতে পারে।
৯. ‘তোমায় নিয়ে বেড়াবে গান / নদীতে, দেশগাঁয়ে’— পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কবির কাছে গান শুধু একটি নির্দিষ্ট মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়। গান মানুষের মধ্যে শান্তি, ভালোবাসা ও মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে। তাই কবি চান গান নদী, দেশ ও গ্রামের সর্বত্র মানুষের সঙ্গী হয়ে ঘুরে বেড়াক।
এখানে ‘নদী’, ‘দেশ’ ও ‘গাঁ’ বৃহত্তর মানবসমাজের প্রতীক। অর্থাৎ পৃথিবীর সর্বত্র অস্ত্রের পরিবর্তে মানবিকতার গান পৌঁছে যাক— এটাই কবির আকাঙ্ক্ষা।
১০. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় যুদ্ধবিরোধী মনোভাবের প্রকাশ আলোচনা করো।
উত্তর: জয় গোস্বামী এই কবিতায় যুদ্ধ ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর কাছে অস্ত্র হিংসা, বিদ্বেষ, ক্ষমতা ও ধ্বংসের প্রতীক। অস্ত্রের ব্যবহার মানুষের জীবন ও মানবিক সম্পর্ককে বিপন্ন করে।
তবে কবির প্রতিবাদ অস্ত্রের বিরুদ্ধে আরেকটি অস্ত্র তুলে নেওয়ার প্রতিবাদ নয়। তিনি গানের মাধ্যমে প্রতিরোধের কথা বলেছেন। গান এখানে মানবিকতা, সৌহার্দ্য, ভালোবাসা ও সৃষ্টিশীলতার প্রতীক।
‘গানের বর্ম’, ‘বুলেট’, ‘কোকিল’, ‘শকুন বা চিল’ এবং ‘ঋষিবালক’ প্রভৃতি প্রতীকের মাধ্যমে কবি যুদ্ধের ধ্বংসাত্মক শক্তির বিপরীতে শান্তি ও মানবিকতার শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করেছেন।
১১. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় ভাষা, উপমা ও চিত্রকল্পের অভিনবত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: জয় গোস্বামীর কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সাধারণ ও পরিচিত শব্দকে নতুন অর্থ ও চিত্রকল্পের সঙ্গে ব্যবহার করা। ‘অস্ত্র’, ‘সহস্র’-এর মতো শব্দের পাশাপাশি ‘আদুড়’, ‘দেশগাঁয়ে’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার কবিতাকে স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত করেছে।
‘গানের বর্ম’, ‘হাজার হাতে-পায়ে এগিয়ে আসি’, ‘হাত নাড়িয়ে বুলেট তাড়াই’, ‘আমার শুধু একটা কোকিল’— এই ধরনের চিত্রকল্প কবিতার ভাবকে সহজে পাঠকের সামনে উপস্থিত করে।
অস্ত্রের মতো কঠিন ও হিংস্র প্রতীকের বিপরীতে গান, কোকিল ও ঋষিবালকের মতো কোমল প্রতীক ব্যবহার করে কবি যুদ্ধ ও মানবিকতার দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করেছেন।
১২. ‘অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান’ কবিতায় প্রাপ্ত সমাজচিত্র নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তর: কবিতায় এমন এক সমাজের ছবি পাওয়া যায় যেখানে অস্ত্র, ক্ষমতা, হিংসা ও যুদ্ধ মানুষের জীবনে অশান্তি সৃষ্টি করছে। অস্ত্রের দাপটে মানুষের মানবিকতা ও শুভবুদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যুদ্ধ ও রক্তপাতের ফলে সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতির বিপরীতে কবি গানকে দাঁড় করিয়েছেন। গান মানুষের সৃষ্টিশীলতা, মমতা, ভালোবাসা ও শান্তির প্রতীক। কবির আকাঙ্ক্ষা হল মানুষের অন্তরের মানবিক সত্তা জেগে উঠুক এবং অস্ত্রের আধিপত্যের পরিবর্তে শান্তি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠিত হোক।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| অস্ত্র | হাতিয়ার |
| বুলেট | বন্দুকের গুলি |
| কর্ম | কবচ |
| আঁকড়ে | জড়িয়ে |
| খড়কুটো | শুকনো ঘাস; সামান্য অবলম্বন |
| আদুড় | খোলা বা অনাবৃত |
| সহস্র | হাজার; প্রচুর |
মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
ভালো করে পড়বে: অস্ত্র ফেলার তাৎপর্য, অস্ত্র ও গানের প্রতীকী অর্থ, ‘হাজার হাতে-পায়ে’ কথাটির অর্থ, ‘গানের বর্ম’, ‘রক্ত মুছি গানের গায়ে’, ‘কোকিল’-এর তাৎপর্য, ‘শকুন বা চিল’-এর প্রতীকী অর্থ, ‘ঋষিবালক’-এর তাৎপর্য এবং কবিতার নামকরণের সার্থকতা।
মনে রাখার সহজ সূত্র:
অস্ত্র → হিংসা ও ধ্বংস
গান → মানবিকতা ও শান্তি
কোকিল → বসন্ত ও নতুন প্রাণ
শকুন/চিল → সুযোগসন্ধানী শক্তি
ঋষিবালক → পবিত্রতা ও শান্তি
