Cademy
SuggestionsBengaliWBBSE

প্রলয়োল্লাস কবিতা – Kazi Nazrul Islam | মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Bengali Question and Answer

28 Aug 2026 0 views

‘প্রলয়োল্লাস’ কাজী নজরুল ইসলামের একটি শক্তিশালী বিদ্রোহী ও বিপ্লবধর্মী কবিতা। কবিতায় কবি প্রলয়কে শুধুমাত্র ধ্বংসের প্রতীক হিসেবে দেখেননি; বরং পুরাতন, জীর্ণ ও অন্যায়কে ধ্বংস করে নতুন জীবন ও নতুন যুগের সূচনার শক্তি হিসেবে কল্পনা করেছেন।

পরাধীনতার অন্ধকারে থাকা ভারতবাসীর মনে সাহস, আশা ও বিপ্লবী চেতনা জাগিয়ে তোলাই কবিতার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। তাই কবির কণ্ঠে বারবার ধ্বনিত হয়েছে— ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’

প্রলয়োল্লাস কবিতা: সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

বিষয় তথ্য
কবিতার নাম প্রলয়োল্লাস
কবি কাজী নজরুল ইসলাম
কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা
প্রকাশকাল ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ
শ্রেণি মাধ্যমিক দশম শ্রেণি
বিষয় মাধ্যমিক বাংলা
মূল উপজীব্য বিপ্লববাদ ও নতুন সৃষ্টির আহ্বান

প্রলয়োল্লাস কবিতার মূলভাব

কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় প্রলয় একটি বিশেষ প্রতীকী অর্থ বহন করেছে। সাধারণভাবে প্রলয় মানে ধ্বংস; কিন্তু নজরুলের কাছে এই ধ্বংস কেবল শেষ নয়। পুরাতন, জীর্ণ, জরাগ্রস্ত ও অন্যায়ের অবসানের মধ্য দিয়েই নতুন জীবনের সূচনা সম্ভব।

কবি এমন এক শক্তির আগমনের প্রত্যাশা করেছেন, যে শক্তি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ভারতবর্ষকে মুক্তির পথে নিয়ে যাবে। এই শক্তিকে কখনও তিনি প্রলয়, কখনও মহাকাল, কখনও ভয়ংকর, আবার কখনও নবীন শক্তির রূপে কল্পনা করেছেন।

কবিতায় কালবৈশাখীর ঝড়, ধূমকেতু, বজ্র, রথের ঘর্ষণ, উল্কার ছোটা এবং মহাদেবের রুদ্ররূপ— এই সব চিত্রকল্পের মাধ্যমে বিপ্লবের তীব্রতা ও ধ্বংসাত্মক শক্তিকে প্রকাশ করা হয়েছে।

তবে এই ধ্বংসের অন্তরে রয়েছে সৃষ্টির সম্ভাবনা। তাই কবির কাছে প্রলয় ভয়ের নয়; বরং নতুন সৃষ্টির বেদনা

প্রলয়োল্লাস কবিতায় প্রলয়ের তাৎপর্য

প্রলয় = পুরাতনের ধ্বংস + অন্যায়ের অবসান + নতুনের সূচনা

কবিতায় প্রলয়কে একটি পরিবর্তনকারী শক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে। যে সমাজে অন্যায়, পরাধীনতা, কুসংস্কার, জড়তা ও জরাজীর্ণতা জমে রয়েছে, সেই সমাজের পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী বিপ্লব।

এই কারণেই কবি প্রলয়কে আহ্বান করেছেন। তাঁর বিশ্বাস, প্রলয়ের ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন সমাজ, নতুন মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতার সূচনা ঘটবে।

প্রলয়োল্লাস MCQ প্রশ্ন ও উত্তর

১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?

(ক) সর্বহারা
(খ) অগ্নিবীণা
(গ) ফণীমনসা
(ঘ) ঝড়

উত্তর: (খ) অগ্নিবীণা

২. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটির প্রকাশকাল কত?

(ক) ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দ

উত্তর: (গ) ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ

৩. ‘তোরা সব ____ কর’— শূন্যস্থানে কী হবে?

(ক) বিদ্রোহ
(খ) প্রলয় নাচন
(গ) জয়ধ্বনি
(ঘ) সৃজন-বেদন

উত্তর: (গ) জয়ধ্বনি

৪. ‘নূতনের কেতন’ কাকে বলা হয়েছে?

(ক) ধূমকেতুকে
(খ) কালবোশেখির ঝড়কে
(গ) মহাকালকে
(ঘ) বজ্রকে

উত্তর: (খ) কালবোশেখির ঝড়কে

৫. ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) ধ্বংসের আনন্দ
(খ) ভয়ংকর রূপ
(গ) নতুন সৃষ্টি
(ঘ) যুদ্ধের উন্মাদনা

উত্তর: (ক) ধ্বংসের আনন্দ

৬. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার মুখ্য উপজীব্য কী?

(ক) যুদ্ধ
(খ) বিপ্লববাদ
(গ) সহমর্মিতা
(ঘ) প্রকৃতি

উত্তর: (খ) বিপ্লববাদ

৭. অনাগত প্রলয় কোথায় আগল ভাঙল?

(ক) নীল খিলানে
(খ) সপ্ত মহাসিন্ধুতে
(গ) সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে
(ঘ) বিশ্বমায়ের আসনে

উত্তর: (গ) সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে

৮. ভয়ংকর কী হাতে নিয়ে আসছে?

(ক) কৃপাণ
(খ) প্রদীপ
(গ) বজ্রশিখার মশাল
(ঘ) ধূমকেতু

উত্তর: (গ) বজ্রশিখার মশাল

৯. ‘ঝামর’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) গভীর
(খ) কৃষ্ণবর্ণ
(গ) আলুথালু
(ঘ) ঝটকা

উত্তর: (খ) কৃষ্ণবর্ণ

১০. ধূমকেতুকে ‘জ্বালামুখী’ বলা হয়েছে কেন?

(ক) তার পুচ্ছ ধূম্রনির্মিত
(খ) সে আগুন উদ্গিরণ করে
(গ) সে সবকিছু পুড়িয়ে দেয়
(ঘ) সে নিজে পুড়ে যায়

উত্তর: (ক) তার পুচ্ছ ধূম্রনির্মিত

১১. ‘কৃপাণ’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) ঢাল
(খ) তরবারি
(গ) ছোরা
(ঘ) বর্শা

উত্তর: (গ) ছোরা

১২. ‘অট্টরোলের হট্টগোলে’ চরাচর কেন স্তব্ধ?

(ক) ঝড়ের কারণে
(খ) ভয়ংকরের আগমনের কারণে
(গ) রাত নেমে আসার কারণে
(ঘ) ধূমকেতুর কারণে

উত্তর: (খ) ভয়ংকরের আগমনের কারণে

১৩. ‘কপোল’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) কপাল
(খ) গাল
(গ) চোখ
(ঘ) চিবুক

উত্তর: (খ) গাল

১৪. ‘মাভৈঃ মাভৈঃ’ কথার অর্থ কী?

(ক) ভয় না পেয়ে এগিয়ে চল
(খ) যুদ্ধে জয়ী হও
(গ) ভয়ের কথা ভাবো
(ঘ) সবাইকে সাবধান করো

উত্তর: (ক) ভয় না পেয়ে এগিয়ে চল

১৫. ‘শিশু-চাঁদ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

(ক) ছোটো চাঁদ
(খ) সদ্য-উদিত চাঁদ
(গ) চাঁদের সন্তান
(ঘ) চাঁদের মতো সুন্দর শিশু

উত্তর: (খ) সদ্য-উদিত চাঁদ

১৬. ‘নীল খিলান’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

(ক) আকাশকে
(খ) প্রাসাদকে
(গ) গাছপালাকে
(ঘ) মন্দিরকে

উত্তর: (ক) আকাশকে

১৭. ‘রথঘর্ষর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

(ক) রথ ভেঙে পড়ার শব্দ
(খ) বজ্রপাতের শব্দ
(গ) রথের চাকার ঘর্ষণের শব্দ
(ঘ) যুদ্ধের শব্দ

উত্তর: (গ) রথের চাকার ঘর্ষণের শব্দ

১৮. ‘জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন’— কে আসছে?

(ক) নবীন
(খ) চিরসুন্দর
(গ) মহাকাল
(ঘ) মুমূর্ষু

উত্তর: (ক) নবীন

১৯. যে ভেঙে আবার গড়তে জানে তার নাম কী?

(ক) ধূমকেতু
(খ) প্রলয়-নেশার নৃত্যপাগল
(গ) বিশ্বমাতা
(ঘ) চিরসুন্দর

উত্তর: (ঘ) চিরসুন্দর

২০. বধূদের কী তুলে ধরতে বলা হয়েছে?

(ক) কৃপাণ
(খ) মশাল
(গ) প্রদীপ
(ঘ) চাবুক

উত্তর: (গ) প্রদীপ

২১. ‘সুন্দর’ কোন বেশে আসছে?

(ক) কালবৈশাখীর বেশে
(খ) কাল-ভয়ংকরের বেশে
(গ) ধূমকেতুর বেশে
(ঘ) নবীনের বেশে

উত্তর: (খ) কাল-ভয়ংকরের বেশে

২২. ‘দ্বাদশ রবি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

(ক) একটি সূর্য
(খ) বারোটি সূর্য
(গ) সকালের সূর্য
(ঘ) অস্তগামী সূর্য

উত্তর: (খ) বারোটি সূর্য

২৩. ‘দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যূপে’— এখানে ‘দেবতা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?

(ক) মহাদেবকে
(খ) ভারতীয় বিপ্লবীদের
(গ) দেশনায়কদের
(ঘ) দেশমাতাকে

উত্তর: (খ) ভারতীয় বিপ্লবীদের

২৪. ‘মহানিশার শেষে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

(ক) দীর্ঘ রাতের শেষে
(খ) দীর্ঘ কারাবাসের শেষে
(গ) দীর্ঘ প্রত্যাশার শেষে
(ঘ) দীর্ঘ পরাধীনতার শেষে

উত্তর: (ঘ) দীর্ঘ পরাধীনতার শেষে

২৫. ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’— কার জয়ধ্বনি করতে বলা হয়েছে?

(ক) দেশনেতার
(খ) মহাকালের
(গ) দেশমাতার
(ঘ) প্রলয়ংকর শিবের

উত্তর: (ঘ) প্রলয়ংকর শিবের

২৬. ‘বিশ্বপিতার বক্ষ-কোলে’ কী ঝোলে?

(ক) ফুল
(খ) ফল
(গ) কৃপাণ
(ঘ) মুণ্ডু

উত্তর: (গ) কৃপাণ

২৭. ‘মৃত্যু-গহন অন্ধকূপে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

(ক) রাত্রির অন্ধকার
(খ) কুসংস্কারগ্রস্ত সমাজ
(গ) ভীতিজনক স্থান
(ঘ) পরাধীন ভারত

উত্তর: (খ) কুসংস্কারগ্রস্ত সমাজ

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. কবি কাদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন?

উত্তর: কবি পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী ও স্বাধীনতাপ্রত্যাশী মানুষকে প্রলয়ের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।

২. কবি জয়ধ্বনি করতে বলেছেন কেন?

উত্তর: পরাধীনতার অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতার নতুন সূর্যোদয়ের প্রত্যাশায় কবি প্রলয়ের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।

৩. ‘কালবোশেখির ঝড়’কে ‘নূতনের কেতন’ বলা হয়েছে কেন?

উত্তর: কালবৈশাখী ঝড় যেমন পুরাতন ও জীর্ণ প্রকৃতিকে ঝেড়ে নতুন প্রাণের আগমনের সংকেত দেয়, তেমনই বিপ্লব পুরাতন ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুন যুগের সূচনা করে। তাই তাকে ‘নূতনের কেতন’ বলা হয়েছে।

৪. ‘অনাগত’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর: ‘অনাগত’ বলতে কবি এমন এক আসন্ন বিপ্লবী শক্তিকে বুঝিয়েছেন, যে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার পথ খুলে দেবে।

৫. ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বারে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: ‘সিন্ধুপারের সিংহদ্বার’ বলতে কবি ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসনের অধীন ভারতবর্ষকে প্রতীকীভাবে বোঝিয়েছেন।

৬. ‘মহাকাল’ কী?

উত্তর: মহাকাল অনন্ত সময়ের প্রতীক হলেও এই কবিতায় তিনি ধ্বংস ও পরিবর্তনের রুদ্রশক্তির প্রতীক।

৭. ‘ভয়ংকর’ হাসছে কেন?

উত্তর: ‘ভয়ংকর’ এখানে অন্যায় ও অত্যাচার ধ্বংসকারী বিপ্লবী শক্তির প্রতীক। অশুভের বিনাশ করে নতুন যুগের সূচনা করার আনন্দেই সে হাসছে।

৮. ‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘মাভৈঃ’ অর্থ— ভয় কোরো না। কবি এর মাধ্যমে মানুষকে নির্ভয়ে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দিয়েছেন।

৯. ‘অট্টরোলের হট্টগোলে স্তব্ধ চরাচর’— চরাচর স্তব্ধ কেন?

উত্তর: ভয়ংকর বিপ্লবী শক্তির আগমনের তীব্র অট্টরোলে বিশ্বচরাচর যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। এই স্তব্ধতার মধ্যে আসন্ন পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে।

১০. ‘দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: বিপ্লবী শক্তির অসাধারণ তীব্রতা ও দীপ্তি বোঝাতে কবি তাকে বারোটি সূর্যের অগ্নিশিখার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

১১. ‘জগৎ জুড়ে প্রলয়’ কেন ঘনিয়ে আসছে?

উত্তর: জীর্ণ, পুরাতন, জরাগ্রস্ত ও অন্যায় ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে নতুন যুগের সূচনা করার জন্যই প্রলয় ঘনিয়ে আসছে।

১২. ‘মহানিশার শেষে, ঊষার হাসি’— এর তাৎপর্য কী?

উত্তর: দীর্ঘ পরাধীনতার অন্ধকার শেষে স্বাধীনতার নতুন আলো উদিত হবে— এই আশাবাদই এখানে প্রকাশ পেয়েছে।

১৩. ‘প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন’— এর অর্থ কী?

উত্তর: ধ্বংসের মধ্যেই নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। তাই নতুন যুগের জন্মের পূর্ববর্তী যন্ত্রণাকে কবি ‘নূতন সৃজন-বেদন’ বলেছেন।

১৪. ‘আসছে নবীন’— নবীন কে?

উত্তর: ‘নবীন’ বলতে কবি নতুন যুগের বার্তাবাহী বিপ্লবী শক্তিকে বোঝিয়েছেন, যার আগমনে পুরাতনের অবসান ও নতুনের সূচনা হবে।

১৫. ‘ভাঙা-গড়া খেলা’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির যে চিরন্তন প্রক্রিয়া, তাকেই কবি ‘ভাঙা-গড়া খেলা’ বলেছেন।

১৬. বধুরা কেন প্রদীপ তুলে ধরবে?

উত্তর: অন্ধকারের অবসান ঘটিয়ে মুক্তির বার্তা নিয়ে আসা নতুন শক্তিকে স্বাগত জানাতেই বধুদের প্রদীপ তুলে ধরতে বলা হয়েছে।

১৭. ‘কালবোশেখির ঝড়’ কীসের প্রতীক?

উত্তর: কালবোশেখির ঝড় নতুন জীবন, পরিবর্তন ও নতুন মূল্যবোধের প্রতীক।

১৮. ‘ওই আসে সুন্দর’— সুন্দর কীভাবে আসে?

উত্তর: সুন্দর এখানে ‘কাল-ভয়ংকরের’ রূপ ধরে আসে। অর্থাৎ ধ্বংসাত্মক বিপ্লবের মধ্য দিয়েই নতুন সৌন্দর্য ও নতুন জীবন প্রতিষ্ঠিত হয়।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১. ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’— ‘তোরা’ কারা এবং কেন জয়ধ্বনি করতে বলা হয়েছে?

উত্তর: ‘তোরা’ বলতে কবি পরাধীন ভারতের স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষকে বোঝিয়েছেন। ব্রিটিশ শাসনের ফলে ভারতবাসী দীর্ঘদিন পরাধীনতা, শোষণ ও জড়তার মধ্যে ছিল। কবি বিশ্বাস করতেন, এই অন্ধকার ভেঙে বিপ্লবী শক্তির আগমন ঘটবে। তাই মানুষকে সেই পরিবর্তনকারী শক্তিকে স্বাগত জানিয়ে জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।

২. ‘অনাগত’ কে? তাকে ‘প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল’ বলা হয়েছে কেন?

উত্তর: ‘অনাগত’ বলতে কবি আসন্ন বিপ্লবী শক্তিকে বুঝিয়েছেন। এই শক্তি রুদ্ররূপী শিবের মতো পুরাতন ও অন্যায় ব্যবস্থাকে ধ্বংস করবে। তার ধ্বংসের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা ও নতুন যুগের সূচনা হবে। তাই তাকে ‘প্রলয়-নেশার নৃত্য-পাগল’ বলা হয়েছে।

৩. ‘বজ্রশিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ংকর’— ‘ভয়ংকর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: ‘ভয়ংকর’ বলতে কবি নবযুগের বার্তাবাহী বিপ্লবী শক্তিকে বোঝিয়েছেন। এটি রুদ্ররূপী শিবের প্রতীক। পরাধীনতার অচলাবস্থা ও অন্যায়কে ধ্বংস করে নতুন সমাজ গড়ার জন্য এই শক্তির আগমন ঘটছে।

৪. ‘মাভৈঃ মাভৈঃ! জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে’— ‘মাভৈঃ’ বলে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর: ‘মাভৈঃ’ অর্থ ভয় কোরো না। কবি পরাধীনতার অন্ধকারে থাকা মানুষকে ভয় কাটিয়ে সাহসের সঙ্গে নতুন পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যেতে বলেছেন। প্রলয়ের ধ্বংস পুরাতন ও অন্যায়কে সরিয়ে নতুন যুগের পথ তৈরি করবে— এই বিশ্বাস থেকেই কবির অভয়বাণী।

৫. ‘জরায় মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ—লুকানো ওই বিনাশে’— পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য কী?

উত্তর: সমাজের জীর্ণ, অচল ও মৃতপ্রায় চিন্তাধারা অনেক সময় নতুন অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করে। কিন্তু সেই পুরাতন ব্যবস্থার বিনাশের মধ্যেই নতুন প্রাণের সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। তাই ধ্বংস এখানে কেবল শেষ নয়; নতুন সৃষ্টির প্রস্তুতি।

৬. ‘দিগম্বরের জটায় হাসে শিশু-চাদের কর’— চিত্রকল্পটির তাৎপর্য কী?

উত্তর: ‘দিগম্বর’ অর্থ মহাদেব। তাঁর জটায় শিশুচাঁদের কোমল উপস্থিতি রুদ্ররূপের ভয়ংকরতার পাশে কোমলতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক। এর মাধ্যমে কবি দেখিয়েছেন, ধ্বংসের মধ্যেও সৃষ্টির শান্ত ও সুন্দর সম্ভাবনা থাকে।

৭. ‘এই তো রে তার আসার সময়’— তার আসার কী কী চিহ্ন দেখা দিয়েছিল?

উত্তর: বিদ্যুতের মতো চাবুকের ঝলক, বজ্রের মতো গর্জন, ঘোড়ার হ্রেষাধ্বনি, আকাশ থেকে উল্কার পতন এবং রথের চাকার ঘর্ষণের শব্দ— এই সবকিছুকে কবি মহাকালের আগমনের চিহ্ন হিসেবে কল্পনা করেছেন।

৮. ‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?’— ধ্বংসকে ভয় না পাওয়ার কারণ কী?

উত্তর: কবির মতে, ধ্বংসের মধ্যেই নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। প্রলয় পুরাতন, জীর্ণ ও অন্যায়কে ধ্বংস করে নতুন জীবন ও নতুন মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করে। তাই এই ধ্বংস ভয়ের নয়; বরং পরিবর্তনের পূর্বলক্ষণ।

৯. ‘ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর’— ‘সে’ কে?

উত্তর: ‘সে’ বলতে মহাকাল বা প্রলয়কারী রুদ্রশক্তিকে বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতির চিরন্তন নিয়মে ধ্বংসের পরেই নতুন সৃষ্টি আসে। তাই তার ভাঙা-গড়ার কাজই শেষ পর্যন্ত নতুন সৌন্দর্যের জন্ম দেয়।

১০. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘ভাঙা-গড়া’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর: পুরাতন ও জীর্ণ ব্যবস্থার ধ্বংস এবং তার জায়গায় নতুন জীবন ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে ‘ভাঙা-গড়া’ বলা হয়েছে।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার মূলভাব আলোচনা করো।

উত্তর: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার মূল বিষয় হল ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির আবাহন। কাজী নজরুল ইসলাম প্রলয়কে শুধুমাত্র ভয়ংকর ধ্বংসশক্তি হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে প্রলয় হল পুরাতন, জীর্ণ, অন্যায় ও অচল ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে নতুন যুগের সূচনা করার শক্তি।

কবিতার পটভূমিতে রয়েছে পরাধীন ভারতবর্ষ। ব্রিটিশ শাসনের ফলে দেশবাসীর জীবন অন্ধকার ও স্থবির হয়ে পড়েছিল। কবি সেই পরাধীনতার অবসানের জন্য এক শক্তিশালী বিপ্লবী শক্তির আগমন প্রত্যাশা করেছেন। কখনও সেই শক্তি কালবৈশাখীর ঝড়, কখনও মহাকাল, কখনও রুদ্ররূপী শিব, আবার কখনও নবীন বিপ্লবী শক্তির প্রতীকে প্রকাশিত হয়েছে।

কবির কাছে প্রলয়ের ধ্বংস আসলে নতুন সৃষ্টির প্রস্তুতি। তাই তিনি ভয় না পেয়ে প্রলয়কে স্বাগত জানাতে বলেছেন। ‘মাভৈঃ মাভৈঃ’ এবং ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’— এই আহ্বানের মধ্য দিয়ে তিনি পরাধীন মানুষের মনে সাহস, আশা ও বিপ্লবী চেতনা জাগিয়ে তুলেছেন।

২. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় প্রলয়কে কেন স্বাগত জানানো হয়েছে?

উত্তর: সাধারণ অর্থে প্রলয় ধ্বংসের প্রতীক। কিন্তু নজরুলের কবিতায় প্রলয়ের অর্থ আরও গভীর। যে সমাজে অন্যায়, পরাধীনতা, কুসংস্কার, জড়তা ও পুরাতন মূল্যবোধ মানুষের অগ্রগতিকে আটকে রাখে, সেই সমাজের পরিবর্তনের জন্য পুরাতন ব্যবস্থার ধ্বংস প্রয়োজন।

কবি বিশ্বাস করেন, প্রলয়ের মাধ্যমে জীর্ণ ও মুমূর্ষু শক্তির অবসান ঘটবে এবং নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে। তাই প্রলয় তাঁর কাছে নতুন সৃষ্টির পূর্বপ্রস্তুতি। এই কারণেই তিনি প্রলয়কে ভয় না পেয়ে তার জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।

অর্থাৎ কবিতায় প্রলয় ধ্বংসের শেষ নয়; বরং নতুন জীবন, নতুন সমাজ ও স্বাধীনতার সূচনার প্রতীক।

৩. ‘কাল-ভয়ংকর বেশে এবার ওই সুন্দর’— পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য আলোচনা করো।

উত্তর: ‘কাল-ভয়ংকর’ বলতে কবি ধ্বংসকারী বিপ্লবী শক্তিকে বোঝিয়েছেন। তার রূপ ভয়ংকর, কারণ সে পুরাতন ও অন্যায় ব্যবস্থাকে ধ্বংস করবে। কিন্তু কবি তাকে ‘সুন্দর’ বলেছেন, কারণ এই ধ্বংসের উদ্দেশ্য অশুভের অবসান ঘটিয়ে নতুন ও সুন্দর জীবন প্রতিষ্ঠা করা।

এই দ্বৈত রূপের মধ্যে কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাব প্রকাশ পেয়েছে। বাহ্যিকভাবে প্রলয় ভয়ংকর হলেও তার অন্তরে রয়েছে নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা। তাই ধ্বংসকারী শক্তিই শেষ পর্যন্ত সুন্দর ভবিষ্যতের পথ তৈরি করে।

৪. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ আহ্বানের তাৎপর্য কী?

উত্তর: ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ কবিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান। এখানে ‘তোরা’ বলতে পরাধীন ভারতের স্বাধীনতাকামী মানুষকে বোঝানো হয়েছে। কবি তাদের উদ্দেশে প্রলয়ের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।

এই জয়ধ্বনি কোনো ধ্বংসের প্রশংসা নয়। এটি পুরাতন ও অন্যায় ব্যবস্থার অবসান এবং নতুন যুগের আগমনকে স্বাগত জানানোর আহ্বান। দীর্ঘ পরাধীনতায় মানুষ যখন ভয় ও জড়তার মধ্যে আটকে পড়েছিল, তখন কবির এই পুনরাবৃত্ত আহ্বান তাদের মধ্যে সাহস ও বিপ্লবী চেতনা জাগিয়ে তুলতে চেয়েছে।

৫. ‘দিগন্তরের কাঁদন লুটায় পিঙ্গল তার ত্রস্ত জটায়’— কবিতায় ধ্বংস ও কোমলতার বৈপরীত্য কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?

উত্তর: নজরুলের কাব্যচিন্তায় ধ্বংস ও কোমলতা পাশাপাশি অবস্থান করে। ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় মহাকালের রুদ্ররূপে ধ্বংসের প্রচণ্ডতা যেমন প্রকাশিত হয়েছে, তেমনই তার মধ্যে মানবিক বেদনা ও কোমলতাও রয়েছে।

একদিকে ‘দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা’ তাঁর ভয়ংকর শক্তির প্রতীক, অন্যদিকে তাঁর নয়নের জল মানুষের দুঃখ ও বেদনার প্রতীক। অর্থাৎ তিনি শুধু ধ্বংস করতে আসেননি; মানুষের মুক্তির জন্য তাঁর হৃদয়ে বেদনা রয়েছে। এই বৈপরীত্যের মধ্য দিয়েই কবি প্রলয়ের মানবিক তাৎপর্য প্রকাশ করেছেন।

৬. ‘অন্ধ কারার বন্ধ কূপে / দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যূপে’— পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

উত্তর: ‘অন্ধ কারার বন্ধ কূপ’ বলতে পরাধীনতা ও শোষণের অন্ধকার পরিবেশকে বোঝানো হয়েছে। এই অবস্থায় স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামকারী বিপ্লবীরা কারাগারে বন্দি ও নির্যাতিত হয়েছিলেন।

কবি সেই বিপ্লবীদের ‘দেবতা’ হিসেবে কল্পনা করেছেন। কারণ দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিলেন। যজ্ঞের যূপে যেমন বলি দেওয়া হয়, তেমনই স্বাধীনতার যজ্ঞে বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের ইঙ্গিত এখানে রয়েছে।

৭. ‘আসছে নবীন—জীবনহারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন’— নবীনের আগমনের তাৎপর্য কী?

উত্তর: ‘নবীন’ হল নতুন যুগের বার্তাবাহী শক্তি। কবির চোখে সমাজের জীর্ণ, জরাগ্রস্ত ও অন্যায় ব্যবস্থা ‘জীবনহারা অ-সুন্দর’। এই অচল অবস্থার অবসান না ঘটলে নতুন জীবনের সূচনা সম্ভব নয়।

তাই নবীন শক্তি এসে পুরাতন ও অসুন্দরকে ছেদন করবে এবং নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটাবে। এখানে নবীনের আগমন আসলে বিপ্লব ও পরিবর্তনের আগমনের প্রতীক।

৮. ‘প্রলয়োল্লাস’ নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উত্তর: কবিতার বিষয়বস্তু ও মূল বক্তব্যের সঙ্গে ‘প্রলয়োল্লাস’ নামটি সম্পূর্ণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ‘প্রলয়’ অর্থ ধ্বংস এবং ‘উল্লাস’ অর্থ আনন্দ। সাধারণভাবে ধ্বংস ও আনন্দ পরস্পরবিরোধী মনে হলেও নজরুল এই দুই ধারণাকে একত্র করেছেন।

কবিতায় প্রলয় পুরাতন, জীর্ণ ও অন্যায় শক্তিকে ধ্বংস করে নতুন যুগের পথ তৈরি করে। সেই কারণে কবি প্রলয়কে ভয় না পেয়ে তার জয়ধ্বনি করতে বলেছেন। ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয় বলেই প্রলয় এখানে আনন্দের বিষয়।

তাই কবিতার মূল ভাব— ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির আগমন— ‘প্রলয়োল্লাস’ নামের মধ্যেই সুন্দরভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

৯. ‘ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন!’— পঙ্ক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর: কবি ধ্বংসকে ভয়ের কারণ হিসেবে দেখেননি। তাঁর মতে, পৃথিবীর পরিবর্তনের স্বাভাবিক নিয়মেই পুরাতনের অবসান ঘটে এবং নতুনের জন্ম হয়। তাই প্রলয়ের ধ্বংসের মধ্যেই নতুন সৃষ্টির বীজ লুকিয়ে থাকে।

পরাধীন ভারতবর্ষের জীর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থার অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতার নতুন যুগ প্রতিষ্ঠার জন্য এই প্রলয় দরকার। সেই কারণেই কবি প্রলয়কে ‘নূতন সৃজন-বেদন’ বলেছেন। নতুন যুগের জন্মের আগে যে যন্ত্রণা ও সংঘাত আসে, সেটিই এই সৃজন-বেদনা।

প্রলয়োল্লাস কবিতার গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও প্রতীক

শব্দ / প্রতীক তাৎপর্য
প্রলয় পুরাতন ও অন্যায়ের ধ্বংস এবং নতুন সৃষ্টির সূচনা
কালবোশেখির ঝড় পরিবর্তন ও নতুন জীবনের প্রতীক
মহাকাল ধ্বংস ও পরিবর্তনের চিরন্তন শক্তি
ভয়ংকর বিপ্লবী ও ধ্বংসকারী শক্তি
নবীন নতুন যুগের বার্তাবাহী শক্তি
দ্বাদশ রবি অত্যন্ত তীব্র ও দীপ্ত বিপ্লবী শক্তির প্রতীক
মাভৈঃ ভয় না পাওয়ার ও সাহসের আহ্বান
লোহার শৃঙ্খল পরাধীনতা ও বন্দিত্বের প্রতীক
প্রদীপ আশা ও নতুন শক্তিকে স্বাগত জানানোর প্রতীক
ভাঙা-গড়া ধ্বংসের পর নতুন সৃষ্টির চিরন্তন প্রক্রিয়া

মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

বিশেষভাবে প্রস্তুতি নাও: ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের অর্থ, কবিতার মূল উপজীব্য, ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’, ‘মাভৈঃ মাভৈঃ’, ‘কালবোশেখির ঝড়’, ‘নূতনের কেতন’, ‘প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন’, ‘কাল-ভয়ংকর’, ‘দ্বাদশ রবির বহ্নিজ্বালা’, ‘দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যূপে’ এবং কবিতার নামকরণের সার্থকতা।

এক কথায় কবিতার মূল বক্তব্য: পুরাতন ও অন্যায়ের ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন জীবন, নতুন সমাজ এবং মুক্তির সূচনা সম্ভব।

Frequently Asked Questions